রবিবার, ২১-জুলাই ২০১৯, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • যাবজ্জীবন অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড- রায়ের শুনানি শেষ, আদেশ যেকোনো দিন

যাবজ্জীবন অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড- রায়ের শুনানি শেষ, আদেশ যেকোনো দিন

shershanews24.com

প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০১৯ ০১:২২ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ, ঢাকা: যাবজ্জীবন অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড- এ সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায় পুর্নবিবেচনা (রিভিউ) আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশ যেকোনো দিন (সিএভি)।
আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত সদস্যের ফুল কোর্ট শুনানি শেষ রায়ের ব্যাপারে এ আদেশ দেন।
আজ আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদণ্ড- এমন আদেশ বাংলাদেশের বিদ্যামান আইনের পরিপন্থী। যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর। এছাড়া আসামির খাটা দণ্ড এ থেকে বাদ যাবে।
এদিকে, চারজন অ্যামিকাস কিউরির পক্ষ থেকে এমন অভিমতই এসেছে।
তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এমন অভিমতের বিরোধিতা করে বলেছেন, আদালতের আদেশ যুক্তিযুক্ত। যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যুই আসামিকে কারাগারে থাকতে হবে।

এর আগে গত ৯ মে যাবজ্জীবন অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড- এ সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায় পুর্নবিবেচনা (রিভিউ) আবেদনের শুনানি শুরু হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। তিনি আদালতে ভারত, পকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন নজির উপস্থাপন করে দেখান যে ওখানে আমৃত্যু কারাদণ্ড আদালত কর্তৃক নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়। অতএব আমৃত্যু কারাদণ্ডের যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ওটা আমাদের আইনের পরিপন্থী। তাই ওই রায়টি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানিতে আরো বলেন, যাবজ্জীবন সাজার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকতে হবে। আমাদের আইনে যাবজ্জীন কারাদণ্ড হিসেবে ৩০ বছর বলা আছে। যা রেয়াদ পাওয়ার পর সাড়ে ২২ বছর হয়। উন্নত বিশ্বেও সাজার মেয়াদ বলে দেয়া হয়। সেখানে প্যারোল ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে সে ব্যবস্থা নেই। তাই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হিসেবে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হলে কারাগারগুলো বৃদ্ধাশ্রম হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বর্তমানে সারা দেশের কারাগারে ৫ হাজার ৫৩৭ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি রয়েছেন। এ সংক্রান্ত রায় নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা ও তাদের পরিবার বুঝতে পারছেন না কত দিন কারাগারে কাটাতে হবে।
এর আগে সযাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড- একটি মামলায় আপিল বিভাগের এমন রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ নিষ্পত্তির জন্য চারজন সিনিয়র আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেন আপিল বিভাগ। চারজন অ্যামিকাস কিউরি হলেন- সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, আইনজীবী আবদুর রেজাক খান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন।
সাভারে ২০০১ সালে জামান নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বহাল থাকা আসামি আতাউর রহমানের সাজা কমিয়ে আপিল বিভাগ যাবজ্জীবন সাজা দেন। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ সাভারের জামান হত্যা মামলায় দুই আসামির আপিলের রায় প্রদানের সময় বলেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ ৩০ বছর নয়, বরং আমৃত্যু কারাদণ্ড। স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত জেলে থাকতে হবে।
রায়ের সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এর প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, এটা যেন মূল রায়ে না থাকে। যদি থাকে, তাহলে সব মামলার আসামিদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য হবে।
তখন প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে দেখাবেন ৩০ বছর না। যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদণ্ড। বিশেষ করে আদালত যদি এ মর্মে আদেশ দেন যে আমৃত্যুই থাকতে হবে।
খন্দকার মাহবুব হোসেন জবাবে বলেছিলেন, ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৫৭ ধরায় যাবজ্জীবন দণ্ডের অর্থ হল সর্বোচ্চ ৩০ বছর কারাদণ্ড। কারাগারে রেয়াত পেলে দণ্ড আরো কমে আসে। কিন্তু আমৃত্যু সাজা হলে রেয়াত খাটবে না। তিনি বলেন, যদি আমৃত্যুই হয়ে থাকে, তাহলে তাদের রেয়াতের কি হবে?
এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন আতাউর।
শীর্ষকাগজ/জে