মঙ্গলবার, ২০-আগস্ট ২০১৯, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • মুজিবনগরের ভুয়া কর্মচারী সাব-রেজিস্ট্রারদের লাগামহীন দুর্নীতি

মুজিবনগরের ভুয়া কর্মচারী সাব-রেজিস্ট্রারদের লাগামহীন দুর্নীতি

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: মুজিবনগর সরকারের কর্মচারীর ভুয়া সনদপত্র দেখিয়ে চাকরি নেয়া সাবরেজিস্ট্রাররা এখন দাবড়ে বেড়াচ্ছেন সারাদেশের ভূমি নিবন্ধন অফিসগুলো। ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০০৯ সালে ভূমি প্রশাসনের লোভনীয় এই পদে ১৯০ জনকে নিয়োগ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় এরা সবাই ছিলেন ৩ থেকে ৭-৮ বছরের শিশু। আইন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক তদন্তে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হলেও মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে এসব ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়। ভুয়া পরিচয় দিয়ে চাকরি নেয়ার দায়ে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের পদক্ষেপে অন্তত ৪৮ জনকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে অন্যরা এখনো রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে। এমনকি মন্ত্রী পরিবর্তন হওয়ার পর পরবর্তীতে এই বহিষ্কৃতরাও অনেকেই নানা কায়দায় চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছেন। আর এই জালিয়াত দুর্নীতিবাজরাই এখন দাবড়ে বেড়াচ্ছেন সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমি নিবন্ধন অফিসগুলো। তাদের নেতৃত্বে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, জালিয়াতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এসব কার্যালয়। 
অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ ছাড়া চুল পরিমাণ কাজও হয় না এসব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে। জমির নিবন্ধন, নামজারি, এমনকি জাল দলিলে জমি দখলসহ সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নানা ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ভুক্তভোগীরা। জমির দলিল আটকে রেখে ভুক্তভোগীদের কাছে চাপের মুখে ঘুষ দাবি সাব-রেজিস্ট্রার  ও তাদের দালাল উমেদার, পিওন ও নকলনবিশদের নিয়মিত আচরণে পরিণত হয়েছে। ঘুষ আদায়ের কৌশল হিসেবে সাব-রেজিস্ট্রারের রুটিনমাফিক কাজ নকলনবিশ, উম্মেদার ও পিওন দিয়েও করানো হচ্ছে। এরই সুবাদে সাব রেজিস্ট্রাররা কোটি কোটি টাকার মলিক হচ্ছেন। 
জানা যায়, মুজিবনগর নামধারী ভুয়া-জালিয়াত সাব রেজিস্ট্রারদের অফিসে জমি ক্রয় বিক্রয় করতে আসা সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নানা অজুহাতে সাব রেজিস্ট্রাররা অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। জমি রেজিস্ট্রেশনে নানা অলিখিত খরচ যোগ করেছেন। ফলে সরকারি খরচের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আর এতে জমির ক্রেতা বিক্রেতারা নানাভাবে হয়রানি, লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। খতিয়ানের নামজারি, মিস কেস, হাল দাখিলা, ভূমিহীনদের নামে জমি বন্দোবস্ত দেয়াসহ সব কাজে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে টাকা দিতে হয়। আর এসবের সবই হয় মুজিব নগর সরকারের কর্মচারী পরিচয়ে ভুয়া সনদে চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রারদের নেতৃত্বে। সূত্র জানাায়, বিভিন্ন এলাকার মানুষ জমিজমা সংক্রান্ত কাজে নানাভাবে এসব সাব রেজিস্ট্রারদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। টাকা না দিলে সব ধরনের ফাইল অহেতুক মাসের পর মাস পড়ে থাকলেও স্বাক্ষর করেন না সাব রেজিস্ট্রাররা। সাব রেজিস্ট্রারদের খামখেয়ালি আর দুর্নীতিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। সারাদেশের ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি নিয়মানুযায়ী জমি রেজিস্ট্রি, হেবা, দানপত্রসহ বিভিন্ন দলিল সহজে পাওয়া যায়না। দালালদের চাহিদা মেটাতে দলিল প্রতি দিতে হয় ২০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বাড়তি টাকা আদায়, হয়রানি, হামলা-নির্যাতন, আটক, ফাইল গায়েবসহ সব ধরনের নাজেহাল করে তারা। সাব রেজিস্ট্রি অফিসগুলো নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে কিছু দলিল লেখক, সন্ত্রাসী ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। প্রতিটি অফিসে এদেরকে নিয়েই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রাররা। 
দুদকের এক গণশুনানিতেও ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের সত্যতা মেলায় সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত একজন সাব রেজিস্ট্রারের দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয় গণশুনানি থেকে। গণশুনানিতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক সিন্ডিকেট করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। দেশের প্রায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বলতে গেলে একই কায়দায় দুর্নীতির কারণে বছরে হাজার কোটি টাকার উপরে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। রাজস্ব ফাঁকির টাকায় সাব-রেজিস্ট্রারসহ অনেকে যেমন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তেমনি জনদুর্ভোগ অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে। গত ৬ জুন, ২০১৮ রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঢাকার কোতোয়ালি, গুলশান ও তেজগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সেবা কার্যক্রম নিয়ে দুদকের গণশুনানিতে সাব-রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেটের দুর্নীতি, অনিয়মের খ-চিত্র উঠে আসে। গণশুনানিতে সেবাগ্রহীতারা বিভিন্ন সময়ে দালালের মাধ্যমে হয়রানি, ভোগান্তি, বাড়তি অর্থ খোয়ানোর তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেন। অভিযোগ করা হয়, সাব-রেজিস্ট্রারদের সঙ্গে দালাল চক্রের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পরস্পর যোগসাজশে মানুষকে ভয় দেখিয়ে, হয়রানি করে বাড়তি অর্থ আদায় করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জমি, ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য সম্পদের দলিল করার ক্ষেত্রে প্রথমেই দালালের শিকার হতে হয়। এরপর সেলামি, বিভিন্ন ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। বাড়তি অর্থ না দিলে নিবন্ধনে অহেতুক বিলম্ব, হয়রানি করা হয়। ঘুষ, সেলামি, বাড়তি অর্থ ছাড়া জমির নিবন্ধন হয়েছে- এমন ঘটনা খুঁজে পাওয়া বিরল, বিশেষ করে মুজিবনগর সাব রেজিস্ট্রিার নিয়োজিত আছেন এমন অফিসগুলোতে। জমির শ্রেণি বদলের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হলেও সাব-রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্টরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এ ছাড়াও রয়েছে কথিত সেরেস্তার নামে টাকা আদায় এবং পদে পদে হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের এন্তার অভিযোগ। 
জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার অধীন সাভার, আশুলিয়া, ধানমন্ডি, মিরপুরসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বর্তমানে মুজিবনগর কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণে। প্রতি মাসে এসব সাব রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য এবং চাঁদা তোলা হয়। আর তাই এ সাব রেজিস্ট্রি অফিসগুলো ঘুষ-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শুধু ঢাকায়ই নয়, দেশের অন্যান্য স্থানেও একই চিত্র বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সারাদেশে মুজিবনগর সরকারের কর্মচারীর ভুয়া পরিচয়ে চাকরি নেয়া সাব রেজিস্ট্রারদের অনিয়ম দুর্নীতি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে কয়েকটি খ-চিত্রে তা আরো স্পষ্ট হয়। 
ঘুষের আখড়া পীরগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিস
রংপুরের পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতি গত বছর ব্যাপক হইচই হয়। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। তখন এখানে সাব-রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত ছিলেন মিজানুর রহমান। যিনি মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে ২০০৯ সালে নিয়োগ পান। এই ভুয়া মুজিবনগর কর্মকর্তা পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘুষের আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে আসা সাধারণ মানুষ প্রতিদিন হয়রানির শিকার হয়েছে। নানা অজুহাতে দলিল লেখকদের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা রমরমা ঘুষবাণিজ্য চালিয়ে এসেছেন। তিনি এ অফিসে যোগদান করার পর থেকে জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে অলিখিত খরচ বৃদ্ধি করেন তিনি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি খরচের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। দলিল সম্পাদনে সিটিজেন চার্টার (নাগরিকদের জন্য সরকারি মূল্য তালিকা) ঝুলানো থাকলেও তা মানা হয়নি।  সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখক সমিতি ও দলিল লেখকদের সমন্বয়ে ত্রিমুখী সিন্ডিকেট চক্র ওই অতিরিক্ত টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের নানা অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার এসব দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখির পর অবশেষে গত বছর তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়। 
মুজিবনগর কর্মচারীর ভুয়া সনদে চাকরি নিয়ে অর্থ-বিত্তের পাহাড়
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র সাত। ওই বয়সে তাঁর পক্ষে বড়জোর শিশু শিক্ষার পাঠ নেওয়া সম্ভব, অথচ সনদ জোগাড় করেছেন যে তিনি তৎকালীন মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী ছিলেন। সেই সনদ দেখিয়ে ২০০৯ সালে বাগিয়ে নিয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রারের চাকরি। এরপর প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক দুর্নীতি করে চলেছেন। গড়েছেন অর্থ-বিত্তের পাহাড়। নাম তাঁর জাহিদুল ইসলাম। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ জমা পড়েছে। এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলাও করেছে দুদক। জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার সনদ অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলামের জন্ম ১৯৬৪ সালের ১ মে। সে হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল সাত বছর। তাঁর বাবার নাম আ. মান্নান খান, বাড়ি গোপালগঞ্জ। ১৯৭১ সালে তাঁর পরিবারের কেউ ভারতে আশ্রয় নেয়নি এবং তাঁদের কেউ মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন না। জাহিদুল ইসলাম ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার গুণবতীতে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। জাল সনদের বিষয়ে ২০১২ সালের ১৪ জুন তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ। নোটিশের জবাবে তিনি নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে জানান, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর ১০ মাস ২৫ দিন।  মুজিবনগর সরকারের ইনফরমার পদে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত ওই ক্যাম্পের অধীন কর্মরত ছিলেন। জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরির আগে জাহিদুল ইসলাম প্রথমে গোপালগঞ্জ জজ কোর্টে সেরেস্তাদার এবং পরে একটি ব্যাংকে চাকরি নেন। এক সময় প্রতারণার দায়ে ব্যাংকের চাকরি থেকে তাঁকে বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ। পরে মুজিবনগর সরকারের কর্মচারীর সনদ দিয়ে ২০০৯ সালে সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি নেন তিনি। 
ভুয়া মুজিবনগর কর্মচারী সাব-রেজিস্ট্রার গ্রেফতার
মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে ভুয়া পরিচয়ে চাকরি নেয়া কক্সবাজার ও চকরিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার পরিতোষ কুমার দাসকে ২০১৬ সালে গ্রেফতার করে দুদক। জানা যায়,  ১৯৮৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কাগজপত্র যাচাইকালে বিএসসি এবং এমএসসি পাসের ভুয়া সার্টিফিকেট দাখিল করেন তিনি। এসব সনদের ভিত্তিতে তিনি ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অবৈধভাবে ১১ লাখ ১২ হাজার ৬৩৬ টাকা বেতন-ভাতাদি উত্তোলন করেন। এছাড়া লাগামহীন দুর্নীতিসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
প্রতারণার দায়ে বরখাস্ত হয়েছিলেন যারা
২০১১ সালের  জুনে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে ১০ সাব-রেজিস্ট্রারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তাঁরা সবাই মুজিবনগর কর্মচারীর ভুয়া পরিচয়ে চাকরিতে প্রবেশ করেছিলেন। এরা হলেন বরিশাল চাখারের মোহাম্মদ ফারুক, ফেনীর লেমুয়ার মোরশেদুর রহমান, জামালপুরের বকশীগঞ্জের কামরুল আহসান, জামালপুরের ইসলামপুরের সবুর হোসেন খান, নীলফামারীর শফিকুল ইসলাম সরকার, দিনাজপুরের বোঁচাগঞ্জের আফছার আলী, নওগাঁর ধামুইরহাটের লিয়াকত হোসেন, ঝালকাঠির রাজাপুরের নূরুজ্জামান হাওলাদার, শরীয়তপুরের জাজিরার কাজী নজরুল ইসলাম ও মাগুরার শালিখার আবুল হোসেন। 
২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর মুজিবনগর সরকারের কর্মচারীর ভুয়া পরিচয়ে চাকরি নেওয়া আরো সাত সাব-রেজিস্ট্রারকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া সাব-রেজিস্ট্রাররা হলেন- ফেনীর সোনাগাজীর মতিগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ, নওগাঁর বদলগাছীর সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ শফি হাসান, বগুড়ার নন্দীগ্রামের সাব-রেজিস্ট্রার মোছাঃ মুক্তিওয়ারা খাতুন, দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের সাব-রেজিস্ট্রার রাম জীবন কুন্ডু, বাগেরহাটের রামপালের সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ ফিরোজ আলম, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার নাজমা সুলতানা বাবলী। ওই দিন আইনমন্ত্রণালয় জানায়, এর আগে ৩২ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর ৯ জন স্বেচ্ছায় অবসর নেন। বরখাস্ত করা সাব-রেজিস্ট্রাররা মুজিবনগর সরকারের কর্মচারীর ভুয়া পরিচয়ে চাকরি নিয়েছিলো। 
মুজিবনগরের ১৯০ ভুয়া কর্মচারীকে সাব রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগে মহাজালিয়াতি
১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ ঢাকার উত্তরার মাওছাইদ গ্রামের সবুর হোসেন খানের বয়স ছিল ২ বছর ৭ মাস ১০ দিন। অথচ তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পেয়েছেন সনদ। মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে হয়েছেন নথিভুক্ত। আর এ মহাজালিয়াতির সুযোগ নিয়ে মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে ১৯০ জনের সঙ্গে তিনিও ২০০৯ সালের ৯ই ডিসেম্বর সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। বরিশালের উজিরপুর থানার চকমান গ্রামের মো. নূরুল হকের বয়স ছিল ২ বছর ৯ মাস ১১ দিন। তিনিও মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে ১৩ই ডিসেম্বর ২০০৯ সালে সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। মুক্তিযোদ্ধা সনদে পলিটিক্যাল মটিভেটর হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করার কথা বলা হয়েছে। মুজিবনগর কর্মচারীর সনদ নিয়ে এমন ভয়াবহ জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তদন্তে। শুধু তা-ই নয়, আরও আছে। তদন্ত কমিটির কাছে কীভাবে জালিয়াতি হয় তার বর্ণনা দিয়েছেন নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার মোশারফ হোসেন চৌধুরী। তিনিও ১৯০ জনের একজন। সে সময় তার বয়স ছিল ৮ বছর ৫ মাস ১২ দিন। তদন্ত কমিটিকে তিনি বলেছেন, আমি মুজিবনগর কর্মচারী নই। যুদ্ধকালে ভারতেও যাইনি। সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের একটি চক্রের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে কাগজ সংগ্রহ করেছি। আর কাগজ সংগ্রহ করতে আমার ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। অন্যরা কেউ ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ করেছে। নিয়োগ পেতে আমার মোট খরচ হয়েছে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। তিনি তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন, মুজিবনগর কর্মচারী নিয়ে বিরাট একটি চক্র সারা দেশে টাকার বিনিময়ে কাজ করছে। সবার কাগজই ভুয়া। মোশারফ হোসেন চৌধুরী কাজে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর। নবম সংসদের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৬তম বৈঠকে এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত কমিটি স্থায়ী কমিটির ২৯তম বৈঠকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে ১৯০ জনকে সাব রেজিস্ট্রার পদে আত্তীকরণের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে যে ১৯০ জন মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তাদের বয়স ছিল ২ থেকে ১৬ বছর। এর মধ্যে রয়েছেন বরিশালের আগৈলঝরার বারপাইকা গ্রামের কাজী নজরুল ইসলাম। সে সময় তার বয়স ছিল ৩ বছর ১১ মাস ২৪ দিন। তিনি নিয়োগ পেয়েছেন ২০০৯ সালের ১৩ই ডিসেম্বর। তদন্ত কমিটির কাছে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ইনফরমার হিসেবে কাজ করেছেন। কত তারিখে, কার অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন? তদন্ত কমিটির এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তারিখ মনে নেই। তালিকার ৪৩ নম্বরে রয়েছেন বরিশাল গৌরনদীর সাহাজিরা গ্রামের মো. আবদুল মতিন। তিনি ২০০৯ সালের ৯ই ডিসেম্বর যোগ দেন সাব রেজিস্ট্রার হিসাবে। তার কর্মস্থল শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে। তিনিও ইনফরমার হিসেবে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকার ৫১ নম্বরে রয়েছেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার চকজেস গ্রামের স্বপন কুমার দে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তার বয়স ছিল ৪ বছর ১১ মাস ৮দিন। তিনিও চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর। তালিকার ৬৬ নম্বরে রয়েছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের বড় অভিরামপুর গ্রামের মো. ওবায়েদ উল্লাহ। সে সময় তার বয়স ছিল ৫ বছর ২ মাস ২৫ দিন। তিনি ২০০৯ সালের ৭ই ডিসেম্বর ফেনীর পরশুরামে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। তিনিও মুক্তিযুদ্ধের সময় ইনফরমার হিসেবে কাজ করেছেন বলে সনদে দাবি করেছেন। তালিকার ৭৬ নম্বরে রয়েছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের কাছিহাটি গ্রামের মো. আবুল বাশার। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তার বয়স ছিল ৪ বছর ২ মাস ২৬ দিন। তিনি ২০০৯ সালে ৯ই ডিসেম্বর হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। দাবি অনুযায়ী, তিনিও ছিলেন ইনফরমার। মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের সমেতপুর গ্রামের বোরহান উদ্দিন সরকারও মুক্তিযুদ্ধে ইনফরমার হিসেবে কাজ করেন বলে দাবি করেন। অথচ ৭১-এর ২৬ শে মার্চ তার বয়স ছিল ৫ বছর ২ মাস ২৬ দিন। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর। একাত্তরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাসাইল গ্রামের আজহার আলী খানের বয়স ছিল ৭ বছর ১৫ দিন। তিনিও ছিলেন ইনফরমার বলে দাবি করেন! মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে আত্তীকরণের মাধ্যমে তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুরে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন ২০০৯ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার দীঘলকান্দি গ্রামের মো. শফি হাসান একই সুযোগ নিয়ে নওগাঁর বদলগাছীতে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন ২০০৯ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর। সে সময় তার বয়স ছিল ৫ বছর ২ মাস ২৬ দিন। ৪ বছর ৩ মাস ২৬ দিন বয়সে মুজিবনগর কর্মচারী ছিলেন বলে দাবি করেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার দীঘলকান্দি গ্রামের লিয়াকত হোসেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ২০০৯ সালের ১৩ই ডিসেম্বর নওগাঁর দামইরহাটে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। বগুড়া সদরের বৃন্দা পাড়ার সহিদুল ইসলামও একইভাবে মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে নথিভুক্ত হন। আর এ সুবিধা নিয়ে তিনি ১৬ই সেপ্টেম্বর নওগাঁর আত্রাইয়ে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। সে সময় তার বয়স ছিল ৬ বছর ৫ মাস ২৬ দিন। জামালপুরের সরিষাবাড়ীর হল পূর্ব পাড়া গ্রামের একেএম রফিকুল ইসলামও মুক্তিযুদ্ধের সময় ইনফরমার ছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে সিরাজগঞ্জের গান্দাইলে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তার বয়স ছিল ৬ বছর ৫ মাস ৩ দিন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নিঝুর খামার গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলমের বয়স ছিল ৬ বছর ৪ মাস ৩ দিন। মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর। জয়পুরহাট আক্কেলপুরের মালিগ্রাম গ্রামের মুক্তিওয়ারা খাতুনের বয়স ছিল ৫ বছর ৬ মাস ২৬ দিন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাম্পের সেবিকা ছিলেন বলে দাবি করেছেন! আর মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে ২০০৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর বগুড়ার নন্দীগ্রামে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। ৭ বছর ২৫ দিন বয়সে ইনফরমারের কাজ করেন বলে দাবি করেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বুজরুক বিষ্ণুপুর গ্রামের মো. মনিরুজ্জামান। তিনি মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর। বগুড়ার শিবগঞ্জের মাঝপাড়া গ্রামের মো. শাহ আলমের বয়স ছিল ৮ বছর ৩ মাস ১৬ দিন। আর মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে ২০০৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন জয়পুরহাটের কালাইয়ে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর ধনিরামপুর গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের বয়স ছিল ৭ বছর ২ মাস ২৩ দিন। মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে আত্তীকরণের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর। তালিকার ১১৩ নম্বরে রয়েছে রংপুর পীরগঞ্জের ঘোষপুর গ্রামের মো. খায়রুজ্জামান। ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চে তার বয়স ছিল ৪ বছর ১১ মাস ১৭ দিন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ইনফরমার হিসেবে কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। ১৯০ জন ভাগ্যবানের তিনি একজন। ২০০৯ সালের ১০ই ডিসেম্বর সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে। ১১২ নম্বরে রয়েছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর সন্তোষপুর গ্রামের মো. আফসার আলীর নাম। সে সময় তার বয়স ছিল ৪ বছর ৫ মাস ১৫ দিন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ইনফরমার হিসেবে কাজ করেছেন। আর পরে নথিভুক্ত হয়েছেন মুজিবনগর কর্মচারী হিসাবে। এ সংক্রান্ত কাগজ জমা দিয়ে তিনি ২০০৯ সালের ১৫ই ডিসেম্বর দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। তালিকার ১১৬ নম্বরে রয়েছে কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আবুল বাশার মো. ইউসুফের নাম। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তার বয়স ছিল ৪ বছর ১১ মাস ১ দিন। তিনিও ইনফরমার ছিলেন বলে দাবি করেন। মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে ২০০৯ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের আটোয়ারিতে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ধোবাকল গ্রামের মোহাম্মদ আবু হেনা মোস্তফা কামালের বয়স ছিল ৫ বছর ৮ মাস ৯ দিন। ১৯৮৬ সালে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে নথিভুক্ত হন। আর এ সুবাধে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। রংপুর খেসামত পুনকির গ্রামের সুধীর কুমার সরকারের বয়স ছিল ৭ বছর ৫ মাস ১২ দিন। মুজিবনগর কর্মচারী দাবি করে তিনি ২০০৯ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর বলদীটারী গ্রামের মো. আবদুল মতিনের বয়স ছিল ৬ বছর ১০ মাস ১২ দিন। মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর। তার কর্মস্থল ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে। রংপুর গঙ্গাচড়ার নিলকচ-ী গ্রামের মো. আবদুর রশীদ মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে রংপুরের পীরগঞ্জে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তার বয়স ছিল ৭ বছর ৮ মাস ২৬ দিন। কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরীর আনছারহাট গ্রামের সোহরাব হোসেন সরকারের বয়স ছিল ৫ বছর ৫ মাস ১ দিন। যুদ্ধের ময়দানে তিনি ইনফরমার ছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে সাব রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে। ৫ বছর ৬ মাস ৬ দিন বয়সের শিশু কুড়িগ্রাম রাজারহাটের রাম জীবন কু-ু মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন ইনফরমার! আর মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সাব রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর। যুদ্ধের সময় ৫ বছর ৪ মাস ১দিন বয়সের মিজানুর রহমানের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকায়। তিনিও ইনফরমার বলে দাবি করেন। তিনি সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন ২০০৯ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ শফিকুল ইসলাম সরকারের বয়স ছিল ২ বছর ১০ মাস ১ দিন। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম সদরের নারায়ণপুর গ্রামে। অবাক ব্যাপার হলো এ শিশুও নাকি ইনফরমার হিসেবে কাজ করেছে যুদ্ধের ময়দানে! মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে সাব রেজিস্ট্রার পদে যোগ দিয়েছেন ২০০৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর কর্মস্থল নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে। তালিকার ১৩৫ নম্বরে রয়েছেন রংপুর পীরগঞ্জের খোহাটি গ্রামের খোন্দকার গোলাম কবিরের নাম। সে সময় তার বয়স ছিল ৫ বছর ১ মাস ১৬ দিন। তিনিও যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন ইনফরমার হিসেবে দাবি করেন। মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে তিনি কুড়িগ্রামের রৌমারিতে সাব রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর। ৪ বছর ৮ মাস ২ দিন বয়সে ওসমান গণি ম-ল যুদ্ধের ময়দানে ইনফরমার হিসেবে কাজ করেন বলে দাবি করেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর মইদাম গ্রামে। সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দিয়েছেন ৭ই ডিসেম্বর কর্মস্থল কুড়িগ্রামের চিলমারীতে। তালিকার ১৪৩ নম্বরে রয়েছে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার জীবনদাস কাঠি গ্রামের ফিরোজ আলমের নাম। সে সময় তার বয়স ছিল ৫ বছর ৭ মাস ২৬ দিন। মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে তিনি বাগেরহাটের কচুয়ায় সাব রেজিস্ট্রার হিসাব যোগ দিয়েছেন ২০০৯ সালের ৭ই ডিসেম্বর। তালিকার ১৫৮ নম্বরে রয়েছে বরিশাল উজিরপুর কারফা গ্রামের নীহার রঞ্জন বিশ্বাসের নাম। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তার বয়স ছিল ৩ বছর ৬ মাস ২১ দিন। তিনিও ইনফরমার হিসেবে যুদ্ধের ময়দানে কাজ করেন বলে দাবি করেন। ২০০৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর মাগুড়ার শ্রীপুরে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। আর মাদারীপুর কালকিনির সাহেব পাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের বয়স ছিল ৪ বছর ৪ মাস ৭ দিন। তিনিও মুক্তিযুদ্ধে দেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতের কুচবিহারে গিয়ে ইনফরমারের কাজ করেন বলে দাবি করেন। মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে তিনি শালিখার আড়পাড়ায় সাব রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন ২০০৯ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর। রাজধানীর সূত্রাপুরের ৩৫ অভিসার ভবনের বাসিন্দা মিনতি দাস। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার বয়স ছিলো ৫ বছর ১২ দিন। ৫ বছরের এই শিশুও কুচবিহারে সেবিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মুক্তিযুদ্ধে! আর মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে তিনি সাব রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৯ই ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মাদারীপুর সদরের তরমুগরিয়া মাস্টার কলোনির লুৎফর রহমান মোল্লার বয়স ছিল ৫ বছর ২ মাস ২৬ দিন। তিনিও চব্বিশ পরগনায় ইনফরমার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে দাবি করেন। মুজিবনগরের কর্মচারী হিসেবে তিনি খুলনার তেরখাদায় সাব রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন। বরিশাল উজিরপুরের বাহেরঘাট গ্রামের নুরুজ্জামান হাওলাদার মুক্তিযুদ্ধের সময় ইনফরমার হিসেবে কাজ করেন বলে দাবি করেন ৪ বছর ৮ মাস ১৫ দিন বয়সে। তিনি ঝালকাঠির রাজাপুরে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন ২০০৯ সালের ৭ই ডিসেম্বর। বরিশালের উজিরপুরের করফা গ্রামের বাদল কুমার বিশ্বাসও ইনফরমার ছিলেন বলে দাবি করেন। ‘৭১-এর ২৬শে মার্চ তার বয়স ছিল ৪ বছর ৬ মাস ১দিন। মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে তিনি ভোলার রাধাবল্লভে সাব রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন ৯ই ডিসেম্বর। তালিকার ১৯০ নম্বরে রয়েছে ভোলা চরফ্যাশন থানার চর তোফাজ্জল গ্রামের মোহাম্মদ ফারুকের নাম। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তার বয়স ছিল ২ বছর ১০ মাস ৪ দিন। ২ বছরের এই শিশুও নাকি মুক্তিযুদ্ধে কাজ করেছেন পলিটিক্যাল মটিভেটর হিসেবে! আর এই যোগ্যতা দিয়েই তিনি বরিশালের চাখারে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। 
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ প্রকাশিত)