সোমবার, ২৬-আগস্ট ২০১৯, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • দুর্নীতির অভিযোগকারীকেই সতর্ক করলো প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
৬০২ পদে নিয়োগ জালিয়াতি

দুর্নীতির অভিযোগকারীকেই সতর্ক করলো প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৮:৪৮ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে ৬০২ পদে কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এর বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অভিযোগকারীকেই কঠোরভাবে সতর্ক করেছে প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়। এমনকি তদন্তে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে- মন্ত্রণালয়ের চিঠির ভাষা এমন যে, এসব দুর্নীতি-জালিয়াতিতে মন্ত্রণালয়ের বা সরকারের কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং দুর্নীতি-জালিয়াতি ধরিয়ে দেয়ায় মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যহত ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে এবং এর জন্য সতর্ক করা হয়েছে অভিযোগকারীকে। বস্তুত, দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়া এবং দুর্নীতিবাজদের স্বার্থ রক্ষা করতেই প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় এমন উল্টো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
জানা যায়, গত বছর তৃতীয় শ্রেণির ৬০২টি পদে কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতিতে রীতিমতো নজির সৃষ্টি করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। এই নিয়োগ পরীক্ষার কার্ড ইস্যু, ভাইভা থেকে শুরু করে কোটা নিরূপনসহ সবখানেই ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে। এমনকি বিলুপ্ত পদেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে মহাজালিয়াতির মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, যেসব পদ আদতে ছিলোই না বা অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে সেসব পদও শূন্য দেখিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে ওই পদে লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অবৈধভাবে এসব নিয়োগে  কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করেছে অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট। যেমন- পোল্ট্রি টেকনিশিয়ান পদে মোট ৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অথচ যে ৬ দফতরে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে হাস মুরগি খামার পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর ও কুড়িগ্রাম এই ৪ টি দফতরের পদই বিলুপ্তকৃত। 
ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই সীমাহীন দুর্নীতি-জালিয়াতির ঘটনা তুলে ধরে কয়েক দফায় মন্ত্রী-সচিবের কাছে অভিযোগ দেন বাংলাদেশ পশুসম্পদ ক্যাডার বহির্র্র্ভূত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. আফসার আলী। এর প্রেক্ষিতে অভিযোগ তদন্তে তদন্তকারী কর্মকর্তাও নিয়োগ দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু এই দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে তদন্তে গড়িমসি করে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ে পুনরায় অভিযোগ দেন পশুসম্পদ ক্যাডার বহির্র্র্ভূত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. আফসার আলী। এতে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক তোলপাড় হয়। ক্ষুব্ধ হন সচিব রইছউল আলম মন্ডল। তার নির্দেশে ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ আফসার আলীকে কঠোরভাবে সতর্ক করে চিঠি দেয় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি তদন্তের নামে ওই দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ারও ব্যবস্থা করেন সচিব।
আফসার আলীকে দেয়া ওই চিঠিতে ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগকৃত তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক যথাযথভাবে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বিধায় যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিষয়টি নথিজাত করা হয়েছে’ মর্মে উল্লেখ করা হয়। একই বিষয়ে ‘পুনরাবৃত্তিমূলক অভিযোগ প্রদানের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ব্যহত ও মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার জন্য’ আফসার আলীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। 
নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের ফলাফল অভিযোগকারীকে জানিয়ে দেয়ার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে অভিযোগকারীকে তদন্তের কোনো ফলাফল না জানিয়ে উল্টো তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এই সতর্কীকরণ চিঠি পাওয়ার পর এ বিষয়ে অবহিত করে গত ১৯ ডিসেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দেন বাংলাদেশ পশুসম্পদ ক্যাডার বহির্র্র্ভূত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. আফসার আলী।
সচিব বরাবর দেয়া ওই চিঠিতে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ব্যহত ও মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণœ করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমার নেই। আমি চেয়েছিলাম, কিছু দুর্নীতিবাজের কবল হতে অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তিকে অক্ষুন্ন রাখতে এবং  জনসাধারণ যাতে ন্যায় বিচার পায় তার প্রতিকার করতে। আমার অভিযোগপত্রে দালিলিক প্রমাণাদিসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছিলো। বিশেষ করে বিলুপ্তকৃত পদের বিপরীতে কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করা। দালিলিক প্রমাণাদিসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করায় যদি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ব্যহত ও মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়ে থাকে তাহলে আমাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা যথাযথ হয়েছে এবং সেজন্য আমি ক্ষমা র্প্রাথনা করছি।” 
“তবে আমার বিশ্বাস মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটকে অনিয়ম, দুর্নীতি করার বিষয়ে আরো উৎসাহিত করবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের আরো নিরুৎসাহিত করবে যাহা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ব্যঘাত সৃষ্টি হবে।”
৬০২ পদে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যা ঘটেছে 
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তৃতীয় শ্রেণির ৬০২ টি পদে নিয়োগ দেয়া হলেও এর বেশিরভাগ পদই অনেক আগ থেকে মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত করেছে। মূলত ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য করতেই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এই ভুয়া পদগুলোতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসার পর প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী ও সচিব নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। কিন্তু বর্তমান সচিব মো. রইছউল আলম মন্ডল পদে বসে তদন্ত কমিটির উপর প্রভাব খাটিয়ে সেই দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। এমনকি তিনি অবৈধভাবে এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করারও ব্যবস্থা করেন। 
জানা যায়, ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সীমাহীন দুর্নীতি-জালিয়াতির ঘটনা তুলে ধরে কয়েক দফায় মন্ত্রী-সচিবের কাছে অভিযোগ দেয় বাংলাদেশ পশুসম্পদ ক্যাডার বহির্র্র্ভূত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। শূন্য পদের তালিকা নিরূপনে অনিয়ম, লিখিত পরীক্ষায় কার্ড ইস্যুতে অনিয়ম, মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণে অনিয়ম, জেলা কোটাসহ অন্যান্য কোটা নিরূপনে অনিয়মসহ সামগ্রিক দুর্নীতি-জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট এবং বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ তুলে ধরে ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর প্রথম দফায় মন্ত্রী বরাবর ওই অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রীর নির্দেশে ওই বছরের ১৮ অক্টোবর বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হাফসা বেগমকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। কিন্তু চিহ্নিত দুর্নীতিবাজরা নিয়োগ কমিটির সঙ্গে দফারফা করে তাকে ম্যানেজ করে ফেলে। এর ফলে ওই তদন্ত আর সামনে আগায়নি। তৎকালীন মন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তদন্ত ৫ মাস ধরে ফেলে রাখায় পশুসম্পদ ক্যাডার বহির্র্র্ভূত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. আফসার আলী তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ওই কর্মকর্তাকে তদন্ত এগিয়ে নেয়ার অনুরোধও জানান তিনি। কিন্তু ম্যানেজ হওয়া কর্মকর্তা হাফসা বেগম এতে কোনো গুরুত্বই দেননি। ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পদায়ন করা হয় মো. রইছউল আলম মন্ডলকে। তারই প্রশ্রয়ে উপসচিব হাফসা বেগম তদন্ত কাজ ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. আফসার আলী সচিবের সঙ্গেও একাধিকবার সাক্ষাত করে নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তের অনুরোধ জানান। কিন্তু সচিব কোন পদক্ষেপ নেননি। অবশেষে সমিতির মহাসচিব আফসার আলী ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল  তদন্তে গড়িমসির ব্যাপারে সচিব রইছউল আলম মন্ডলকে লিখিত চিঠি দেন। ওই চিঠি পাওয়ার পর সচিব ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। তবে এটি ছিল লোক দেখানো। লোক দেখানো তদন্তের অংশ হিসেবে দুর্নীতির অভিযোগকারী আফসার আলীকে ১৪ মে ২০১৮ বক্তব্য নেয়ার জন্য ডাকা হয়। আফসার আলী যাতে নির্ধারিত দিনে সেখানে যেতে না পারেন সেজন্য এখানেও তদন্ত কর্মকর্তা অনিয়মের আশ্রয় নেন। আফসার আলীকে উপস্থিত হওয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা ১০ মে চিঠি ইস্যু করেছেন এমনটি দেখানো হলেও ওই চিঠি তার ফ্যাক্সে আসে নির্ধারিত দিনের মাত্র একদিন আগে ১৩ মে। তবুও নির্ধারিত দিন আফসার আলী উপস্থিত হয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির তথ্যপ্রমাণসহ বক্তব্য  তুলে ধরেন।  এসময় প্রমাণস্বরূপ কিছু ডকুমেন্টসও তদন্ত কর্মকর্তাকে দেয়া হয়। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা তারপরেও আফসার আলীকে লিখিত বক্তব্য দিতে বলেন। এর প্রেক্ষিতে ২০ মে আফসার আলী তার লিখিত বক্তব্য তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। একইসঙ্গে কোন কোন দফতরে শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে সেই তালিকা সরবরাহেরও অনুরোধ করেন আফসার আলী। কিন্তু আফসার আলীকে ওই তালিকা তো সরবরাহ করা হয়ই-নি। পরবর্তীতে তাকে কিছু জানানোও হয়নি। উপরন্তু তদন্ত শেষ না করেই বা এ বিষয়ে কোনো সমাধান না করেই দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ৪ টি আদেশে এ নিয়োগপত্র জারি করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। 
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্নীতি-জালিয়াতির পাশাপাশি এমনসব পদে ওই নিয়োগগুলো হয়েছে যেসব পদ অনেক আগেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সূত্র জানায়, ৬০২ টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলেও মন্ত্রণালয় পদ বিলুপ্ত করার কারণে আসলে এর বেশিরভাগ পদ ছিলই না। অথচ সেইসব বিলুপ্ত পদেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,  পোল্ট্রি টেকনিশিয়ান পদে  মোট ৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যে ৬ দপ্তরে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে ৪ টি পদ বিলুপ্তকৃত (হাস মুরগি খামার পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর ও কুড়িগ্রাম)। কম্পাউন্ডার পদে ২৭ জনকে ২৭ দপ্তরে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৯ টি দপ্তরের পদ (বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ, জকিগঞ্জ, দেলদুয়ার, ঈশ^রগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাজিবপুর, ধোপউড়া, ফুলবাড়ী-কুড়িগ্রাম, পাটগ্রাম ও পরশুরাম) আগেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একইভাবে ভিএফএ, এফএ, এআই পদের অধিকাংশ বিলুপ্ত পদ, যেসব পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে ভয়াবহ এই নিয়োগ জালিয়াতি তদন্তের জন্য দুদকের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পশুসম্পদ অধিদফতরের সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা মনে করেন, তদন্ত কর্মকর্তা সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলে এই দুর্নীতির নিয়োগ চূড়ান্ত হতো না। যে অদৃশ্য হাতের প্রত্যক্ষ ইশারায় এই তদন্ত যথাযথভাবে হয়নি এবং অবৈধ নিয়োগ চূড়ান্তÍ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা মনে করেন, এ ধরনের জালিয়াতিমূলক নিয়োগ মন্ত্রণালয় ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। এরসঙ্গে জড়িতদের কঠোর বিচার হওয়া উচিৎ।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ প্রকাশিত)