মঙ্গলবার, ২০-আগস্ট ২০১৯, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

নির্বাচন ও সংসদ নিয়ে অস্বস্তিতে সরকার

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৭:২৬ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর সরকারি দল আওয়ামী লীগের মধ্যে যে উৎফুল্ল ভাব থাকার কথা সেটি তো নেই-ই, উল্টো তাদেরকে একের পর এক ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে- যদিও প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এখন পর্যন্ত আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি দেয়নি। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে মহাজোটেরই শরীকদল জাসদের কাছ থেকে। নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখার অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে জাসদ। এরজন্য তারা প্রশাসনের অতি উৎসাহী কর্মকর্তাদের দায়ী করেছে এবং তাদের বিচারেরও দাবি জানিয়েছে। জাসদের এমন ‘বোমা ফাটানো’ বক্তব্যের পর সরকারের মধ্যে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। এর আগে টিআইবি এবং সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন নির্বাচন নিয়ে যে মন্তব্য করেছিল সেই ধকলও সরকার এখন পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
এদিকে আগামী ১০ মার্চ প্রথম ধাপে দেশের ৮৭ উপজেলায় ভোটের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এরপর মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে সারাদেশের অন্যান্য উপজেলায়ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। তবে এসব নির্বাচনসহ আগামীতে এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনেই অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, ২০ দলীয় জোট বা ঐক্যফ্রন্ট। হোক সেটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অথবা জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন। এমনকি বামফ্রন্ট, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ অন্য বিরোধীদলগুলোও বর্তমান সরকারের অধীনে সকল ধরনের নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি জোটের নির্বাচন বয়কটের এমন সিদ্ধান্ত সরকারকে এক ধরনের অস্বস্তির মধ্যেই ফেলেছে। সরকার আরো বড় অস্বস্তিতে পড়েছে সংসদে বিরোধী দল নিয়ে। একসঙ্গে নির্বাচন করে নিজেদের মধ্য থেকেই আবার বিরোধী দল তৈরি করায় এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এক ছাতার তলায় নির্বাচন করার পর যাদেরকে বিরোধীদলে ঠেলে দেয়া হয়েছে তারা যেমন এটাকে মেনে নিতে পারছেন না, অন্যদিকে বাইরেও কেউ এদেরকে বিরোধীদল হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের বলছেন, বিএনপি সংসদে আসলে তাদেরকে রাজপথেও আন্দোলন করার সুযোগ দেয়া হবে। মোহাম্মদ নাসিম বিএনপির প্রতি পরামর্শ দিচ্ছেন সংসদে এসে সরকারকে চাপের মধ্যে রাখার। এমনকি বিএনপি যাদেরকে মুরব্বী মানে সেই সকল বিদেশিদের দিয়েও চাপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে তারা সংসদে আসে। তবে এসব কিছুতেই সাড়া মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত বিরোধী দল শূন্য এ ধরনের একটি সংসদের অবস্থা আসলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বিশ্লেষকরা সেই প্রশ্ন তুলেছেন। 
যেমনটি মনে করছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, “দেশে শাসনতান্ত্রিক কোনো সংকট নেই। তবে রাজনৈতিক সংকট প্রকট। টেলিভিশন টকশো আর কিছু সভা সেমিনারের বাইরে দেশের কোথাও কোনো রাজনীতি নেই। তবে দেশে রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিরোধীদলহীন একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে নতুনভাবে আমরা আত্মপ্রকাশ করেছি।”
ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি, এটম বোমা ফাটালো জাসদ
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছে। তারমধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় ছিল টিআইবি’র প্রতিবেদন। টিআইবির প্রতিবেদনটি নিয়ে ব্যাপক হইচই হয়, সরকার চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। এরপর সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন নামের প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচনের দিনের তাদের বক্তব্য থেকে সরে আসে এখন সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে বোমা ফাটিয়েছে মহাজোটের শরীক দল জাসদ। নৌকা মার্কায় নির্বাচন করা জাসদও বলছে, ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছিল। এরজন্য তারা অতি উৎসাহী প্রশাসনকে দায়ী করেছে।
গত ১৫ জানুয়ারি টিআইবি তাদের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, ৩০০ আসনের মধ্যে ৫০টি আসনের নির্বাচন তারা পর্যবেক্ষণ করেছে। এই ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৭টিতে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে । এমনকি এই ৫০টির ৩৩টিতে আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেছে। টিআইবির এই প্রতিবেদনের পর বেশ তোলপাড় বয়ে যায়। যদিও এরকমের ঘটনা যে ব্যাপকহারে ঘটেছে তা বাংলাদেশের মানুষ সবাই কমবেশি জানেন, তারপরও টিআইবির মতো প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন তথ্য দেয়াটা সরকারের জন্য বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। 
এরপর গত ২২ জানুয়ারি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন নামের সরকার সমর্থিত প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষকরা তাদের পূর্বের বক্তব্য ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে’ থেকে সরে এসে ‘আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা’র কথা বলার পর সরকার আরেক দফায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। এই সংগঠনটি নির্বাচনের দিন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এবং নির্বাচনের পরের দিনও আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে পরে জানা গেছে, এই ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টাদের একজন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আর একজন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য।
সংবাদ সম্মেলন ছাড়াও সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের হয়ে কানাডীয় নাগরিক তানিয়া ফস্টার প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে বলেছেন, বাংলাদেশে কানাডার মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
তবে গত ২২ জানুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তানিয়া ফস্টার বলেছেন, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। ইতিপূর্বে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জন্য তিনি অনুতপ্ত বলেও জানান। তিনি জানতেন না যে, এর সাথে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং সার্কের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান মোহাম্মদ আব্দুস সালাম রয়টার্সকে বলেছেন, নির্বাচনের আগের রাতে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ব্যালট বাক্স ভরে রেখেছেন এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও ভোটারদের কাছ থেকে নির্বাচনের এমন বিবরণ শোনার পর তার কাছে এখন মনে হচ্ছে, নতুন করে নির্বাচন হওয়ার দরকার। সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি ৭৫ বছর বয়সী আব্দুস সালাম বলেন, এখন আমি সবকিছু জানতে পেরেছি এবং বলতে দ্বিধা নেই, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি।
নির্বাচন নিয়ে সর্বশেষ সরকারকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা কবুল করেছে দলটি। এজন্য প্রশাসনে অতি উৎসাহী একটি অংশ দায়ী বলে মনে করছে দলটি। 
গত ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি জাসদ-এর জাতীয় কমিটির সাধারণ সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পরে এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। 
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রশাসনের এক শ্রেণির অতি উৎসাহী অংশ ভোটের পূর্ব রাত্রেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের জয় এই নির্বাচনে ‘নিশ্চিত’ ছিল উল্লেখ করে জাসদ বলেছে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে ১৪ দল তথা মহাজোটের নিশ্চিত বিজয় জেনেও যে মহল বিশেষ এ অপকর্ম সংঘটিত করেছে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেননা এ কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে দলটি। 
ঢাকার তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থাায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, নাসিরুল হক নওয়াব, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সহ-সভাপতি আবু মো. হাশেম, কলন্দর আলী, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার, আবুল কালাম আজাদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল হক খোকন, বীণা শিকদার, হোসাইন আহমদ তফসির প্রমুখ। 
নির্বাচন নিয়ে সরকারের শরীক দল জাসদের এমন বক্তব্যের পর রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় বয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগগুলো এখন হালে পানি পেতে শুরু করেছে। সরকারের মধ্যে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। এটিকে জাতীয় রাজনীতিতে ‘এটম বোমা’ বলেও আখ্যায়িত করছেন কেউ কেউ। 
বিরোধীদল নির্ধারণের মালিক আওয়ামী লীগ নয়
গত ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রকৃত বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে এই সংসদের চেহারা কেমন, তা এখনই বলা যাবে না। জাতীয় পার্টি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হিসেবে নির্বাচন করেছে, কিন্তু এ দলের সংসদ সদস্যরা বিরোধী দলের আসনে বসছেন; বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের নির্বাচনের আগের ও পরের ভূমিকা পরস্পরবিরোধী। নির্বাচনের আগে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াই চালিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে আসন ছেড়ে দিয়েছেন।
যারফলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য দলগুলোর এমপিদের অবস্থান পরিষ্কার নয়। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রথম অধিবেশনে বলেছেন, সংসদে তাদের অবস্থান নিয়ে তারা বিব্রত। জাতীয় পার্টি দলীয় প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচন করেছে, কিন্তু ১৪ দলের শরিকেরা নৌকা প্রতীক নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং তারা জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে নৌকার সহযাত্রীদের এই পরস্পরবিরোধী ভূমিকা সংবিধানের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ কি না, সেটাও ভেবে দেখার বিষয়। অথচ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা বলেছেন, ১৪ দলের শরিকেরা বিরোধী দলের আসনেই বসবেন।
যদিও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলছেন, জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকাই পালন করবে। একই সঙ্গে তিনি সরকারি দলের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, তাদের ন্যায্য কথা যেন আমলে নেওয়া হয়। জিএম কাদেরের বক্তব্যকে সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা শেখ হাসিনা স্পিকারের কাছে সরকার ও বিরোধী দলকে সমান সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ইতিপূর্বে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের মহাজোটে নির্বাচনের পর সরকারেও ছিল। এবারও তারা একসঙ্গে নির্বাচন করেছে। নির্বাচনের পর তারা চেয়েছিল সরকারে থাকতে। তাদেরকে প্রকৃত বিরোধীদল বানানোর কসরত চলছে এখন। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় কার্যক্রমে সুযোগ দেওয়া বা নেওয়ার বিষয় নয়। সংসদ চলতে হবে আইন ও কার্যবিধি অনুযায়ী।
স্বাধীনতার ৪৭ বছর ও ১০টি সংসদ পার হয়েছে। পূর্বতন সংসদের চেয়ে পরবর্তী সংসদ অধিকতর কার্যকর হয়েছে, এ রকম উদাহরণ কম। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর যে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এখন নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
অতীতের কথা বাদ দিলেও নবম ও দশম সংসদেও আইনগুলো পাস হয়েছে অর্থবহ আলোচনা ছাড়াই। নবম সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে কয়েক মিনিটের আলোচনায়। আর দশম সংসদে ‘কার্যকর’ বিরোধী দল না থাকায় শুধু আইন পাস নয়, সবকিছুতে বিনা বাধায় ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। সংসদে যারা বিরোধী দলের এমপি হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ মন্ত্রী হয়েছেন। একসঙ্গে মন্ত্রী ও বিরোধী দলের এমপি থাকা যায় না। এই বাস্তবতায় একাদশ সংসদে কার কী ভূমিকা হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আটজন এমপি এখনো শপথ নেননি। নেবেনও না। ইতিমধ্যে তারা বর্তমান সংসদ বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। তাঁরা যদি শেষ পর্যন্ত শপথ না নেন, তাহলে একাদশ সংসদ নির্বাচনকালীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ‘মহাজোটের’ মধ্যেই সীমিত থাকবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় গণতন্ত্র তখনই কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব হয়, যখন সরকার ও সংসদ আলাদা থাকে। রাষ্ট্রের এই দুটি অঙ্গ একাকার হয়ে গেলে তা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হয়। অনেক দেশে সরকারি দলের সাংসদেরা সরকারের অনেক বিল বা প্রস্তাবের বিরোধিতা করে থাকেন। কিন্তু আমাদের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ জুড়ে দেওয়ায় সেটি অসম্ভব। 
এমন অবস্থায় বিরোধী শূন্য পার্লামেন্ট বা রাজপথ দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য কতটা কল্যাণকর হবে এবং এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে বিশ্লেষকরা সেই প্রশ্ন এনেছেন।
তারা বলছেন, এভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা যদি বিরোধী দলকে মোকাবিলা না করে নির্বাচনে জিততে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন, তবে সেই দল রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হতে বাধ্য। বিরোধী দল বলে কিছু থাকবে না, আবার একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্ষমতাসীন দলও শক্তি হারাবে- এমন পরিস্থিতি আর যাই  হোক, কোনোভাবেই রাজনীতি-সহায়ক নয়।
সবচে’ বেশি রাজনীতি সচেতন জনগোষ্ঠীর গণতন্ত্রের এ অবস্থা!
মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় জনগোষ্ঠী হিসেবে বাংলাদেশিদের নাম এসেছে। বিশ্বের ৩৩টি উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপের তথ্য অনুয়ায়ী বাংলাদেশের ৬৫ ভাগ মানুষ উচ্চমাত্রায় এবং ২৯ ভাগ মানুষ মধ্যমমাত্রায় রাজনীতিতে সক্রিয়। এই দুটিকে যোগ করলে বলতে হয়, বাংলাদেশের ৯০ ভাগের বেশি মানুষ কোনো না কোনো মাত্রায় রাজনীতিতে সক্রিয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিভিন্নমাত্রায় রাজনীতিতে সক্রিয় বাংলাদেশের মানুষ যদি স্বাভাবিক রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয় অথবা বিচ্ছিন্ন থাকতে বাধ্য হয়, তবে সেই অবস্থা অস্বাভাবিক। সব ধরনের বিচ্ছিন্নতাই বিপজ্জনক, রাজনৈতিক বা সামাজিক। রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং মতপ্রকাশ ও গণতন্ত্রের আকাক্সক্ষা আছে যে দেশের জনগণের, সেখানে রাজনীতি-বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতি বেশি বিপজ্জনক। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ‘অশুভ শক্তি’ বলতে যাদের বোঝানো হয়, তাদের বিকাশের জন্য এমন পরিবেশ বেশ অনুকূল।
জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল বেশ সরব। কিন্তু বিএনপি সেখান থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে এ অভিযোগ আনলেও সরকারের বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি বিএনপি নেয়নি। বরং অবস্থাটি এমন- যেন কিছুই হয়নি। সর্বশেষ ভোটের পর ২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী চা’চক্রের দাওয়াত দিলেও বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সেখানে যোগ দেননি। 
২৫ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে দেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য ও বিরোধী দলের সদস্যদের সংসদে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখন আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ঐক্যের যোগসূত্র হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাম্য ও ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা নিতান্তই কম। তবে সংখ্যা দিয়ে আমরা তাদের বিবেচনা করব না। সংখ্যা যত কমই হোক, সংসদে যেকোনো সদস্যের ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রস্তাব, আলোচনা, সমালোচনার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। আমি বিরোধী দলের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানের আহ্বান জানাচ্ছি। 
 তবে প্রধানমন্ত্রীর সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘যে কথাগুলো (জাতীয় ঐক্য, সংসদে যাওয়া) উনি বলছেন, এগুলো কথার কথা, এগুলো উনি সবসময় বলেন। আমরা তো ফলাফলই প্রত্যাখান করেছি সেখানে নতুন করে শপথ নেয়া ও পার্লামেন্টে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’ 
অবশ্য এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট আসলে কী করতে চায় তা এখনো স্পষ্ট নয়। অবশ্য বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন ঘটনানো হবে। তবে সেই আন্দোলনের রূপরেখা কী তা এখনো প্রকাশ করেনি বিএনপি। তবে অতীতে করা আন্দোলনের শিক্ষা থেকে বিএনপির এবারের আন্দোলন খুব স্বল্প সময়ের এবং খুবই কার্যকরী হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি সূত্র।  
নতুন নির্বাচনে কেন জড়াচ্ছে না বিএনপি?
নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। তবে তারপর স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে তারা অংশ নিয়েছিল।  কিছু নির্বাচনে তারা জয়লাভও করে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নানা দাবি তুলে তাতে সাড়া না পেলেও দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই অংশ নিয়েছিল তারা, সেজন্য গড়ে তুলেছিল নতুন জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’। নির্বাচনের ফলাফলে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের বিপরীতে ধানের শীষের ভরাডুবির পর ভোটে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন বিএনপির নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাচনসহ নতুন কোনো নির্বাচনে না জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। 
বিএনপি মনে করছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অজ¯্র মামলা হয়েছে, এখন নতুন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গেলে হয়ত আরো অনেক মামলা হবে। পাশাপাশি এই সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, সেটিও ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করছে দলটি। 
শুধু উপজেলা নির্বাচন নয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনেও অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘‘গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে কি হয়েছে তা তো দেশের মানুষ দেখেছেন। এমনকি বিশ্ববাসীও দেখেছে। এখন তো দেশে নির্বাচনই নেই। তাহলে আর নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করে লাভ কী? তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না-এটা তো প্রমাণিত। তাই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।”
তবে এই নির্বাচনে অংশ নেয়া, না নেয়া কতটা যৌক্তিক এর পক্ষে বিপক্ষে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘‘বিএনপি জাতীয় সংসদেও নেই। গত ১০ বছর ধরে তারা যে স্থানীয় সরকারে ছিল, সেখানেও তারা কোনো কাজ করতে পারেনি। বাস্তব পরিস্থিতি হলো- এই অবস্থায় নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতিতে বিএনপি আছে বলে আমি মনে করি না। সেটা তাদের নিজেদের কারণেই হোক আর সরকারের কারণেই হোক। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন। যে প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা খুবই যৌক্তিক ও সঠিক বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, দলীয় সরকারের অধীনে যে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না, সেটা আবারও প্রমাণ হয়েছে।  উপজেলা নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না, তার ওপর নির্বাচনে গেলে নেতা-কর্মীদের নামে এমনিতেই শত শত মামলা আছে, আরো শত শত মামলা যোগ হবে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। তবে তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনেও পরাজয়ের আশঙ্কায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পাচ্ছে না।
নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছে বিএনপি? 
নির্বাচনের পর নতুন সংসদের কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই স্তিমিত। যেখানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিতর্কিত নির্বাচনের পরে তুমুল আন্দোলন হওয়ার কথা সেখানে গত একমাসে রাজপথে সেভাবে দেখা যায়নি দলটিকে। 
গত একমাসে রাজপথে বিএনপির একমাত্র কর্মসূচি ছিলো ঢাকায় একটি মানববন্ধন। এছাড়া কর্মীদের একটা বড় অংশই একাধিক মামলার মুখোমুখি। কারাগারেও আছেন অনেকে। এমন অবস্থায় দলটির ভেতরে করণীয় নিয়ে ঠিক কী ভাবনা চলছে? এমন প্রশ্নে দলটির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলছেন, আপাতত দল গোছানোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন তারা।
তিনি বলেন, “আমরা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি কর্মী বাহিনীকে সুসংগঠিত করার উপর। পাশাপাশি বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য আইনী লড়াই চলছে। আমরা আপাতত কিছু সফট এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যাচ্ছি আমাদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য। আশাকরি সেটা অচিরেই হয়ে যাবে। এরপরই আমরা আন্দোলনের প্রচলিত কর্মসূচিতে রাজপথে নামবো।” মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ইতোমধ্যেই কেন্দ্র থেকে প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা করে কমিটি করে দেয়া হয়েছে। নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে সেই প্রতিনিধি দলগুলো সাংগঠনিক সফরও করেছে।
মামলার আওতায় থাকা কর্মীদের আইনী-সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে সেসব সফরে। এর পাশাপাশি দলের পুনর্গঠন নিয়েও চলছে আলোচনা। কিন্তু সেই পুনর্গঠন কিরকম হবে? আলাল বলছেন, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটি, অঙ্গসংগঠনসহ সবকিছুই এর আওতায় আসবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “বিএনপি দল হিসেবে অটুট, ঐক্যবদ্ধভাবে চলছে। বিএনপির নেতৃত্বে কোন সমস্যা নাই। দলীয় সাংগঠনিক কাজও চলছে। কর্মসূচি যখন যেটা প্রয়োজন, সেটা দেয়া হবে। বাংলাদেশে এখন যে সমস্যা, সেটা কোন দলের সমস্যা নয়। এটা জাতীয় সমস্যা।”
দলের নেতারা জানাচ্ছেন, বিএনপি ভবিষ্যতে কী কর্মসূচি দেবে তা এখনই বলার সময় আসেনি। এটা নিশ্চিত যে, এসব কর্মসূচিতে তারা সরকারবিরোধী সব দলগুলোকেই কাছে টেনে কার্যকর জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা করবেন। তবে তার আগে আপাতত দল গোছানোর উপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। 
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ প্রকাশিত)