সোমবার, ১৯-আগস্ট ২০১৯, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • পুলিশের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই

পুলিশের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৪ জুন, ২০১৯ ০৮:৪৪ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর বাউফলে নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষ চলাকালে চোখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে ১০ রাউন্ড গুলিসহ পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার সকাল সারে আটটার দিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষ থামাতে গেলে এক এক নারী মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিলে তার এক সহযোগী পুলিশের অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার ছয় ঘণ্টা পর একটি নারিকেল গাছ থেকে গুলিসহ পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়।

সংঘর্ষে তিন পুলিশ সহ উভয় পক্ষের ১৯ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের হাকিম হাওলাদার গংদের সাথে কামাল হোসেন গংদের সঙ্গে ১৯ একর ৫৪ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকালে ওই জমিতে কামাল হোসেন গংরা প্রায় ২৫-৩০ জন লোক নিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করতে যায়। হাকিম হাওলাদার গংরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকে জমির কাছে না যেতে হুমকি দেয়া হয়।  

হাকিম হাওলাদার এ ঘটনা বাউফল থানাকে জানালে ঘটনাস্থলে তিনজন পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে যায়। এ সময় কামাল হোসেনের পক্ষের ফারুক হাওলাদারের স্ত্রী খাদিজা বেগম পুলিশের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় এবং তার সাথে থাকা ফিরোজ হাওলাদার এক এএসআইয়ের কোমর থেকে ১০ রাউন্ড গুলি সহ পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

বাউফল থানার পুলিশ ঘটনা জানতে পেরে ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের সাথে পার্শ্ববর্তী কালাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহমেদ মনির হোসেন মোল্লা ও নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দুপুর একটার দিকে ফিরোজের বাড়ির একটি নারিকেল গাছ থেকে গুলি ও পিস্তল উদ্ধার করেন।

এদিকে, পুলিশের উপস্থিতিতেই জমি সংক্রান্ত বিরোধে উভয় পক্ষের ১৬ জন আহত হন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন। আহতরা হলেন, সেরাজ হাওলাদার (৬০), আবু বকর(২৫), মাকসুদা বেগম (৩৫), সহিদুল(১৮), বিউটি বেগম (৪৫), হালিম হাওলাদার (২০), অলিল (১৫), মনোয়ারা (৭০), নাজমা (৩৫), ইমরান (২০), কামাল (৪৫), আলম (৫২), মকবুল (৬০), দুলাল (৩৫), নিলুফা (৪০)এবং নূরভানু (৫৫)। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং ৪ জনকে গুরুতর জখম অবস্থায় বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বাউফল থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. মঈনুল হাসান বাউফলে অবস্থান করছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
শীর্ষকাগজ/এসএসআই