মঙ্গলবার, ২৫-জুন ২০১৯, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  •  প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ 

 প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ 

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ১২ জুন, ২০১৯ ০২:৫৬ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ, পাবনা: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার পল্লীতে একদন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী (১২) প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার সময় ধর্ষণের শিকার হয়েছে।  স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
গত সোমবার এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে ধামাচাপা দিতে গিয়ে বুধবার ঘটনাটি ফাঁস যায়। একদন্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষক আকাশের বিরুদ্ধে এর আগে একই ধরণের কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। তার দৃষ্টান্ত বিচার হওয়া দরকার। 
ছাত্রীর বাবা ও চাচা জানান, একদন্ত হাইস্কুলের পাশে ওই স্কুলের পার্টটাইম শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আরিফের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার সময়ে একদন্ত হাইস্কুলের সামনের কসমেটিক্সের দোকানদার ও একদন্তের নরজান গ্রামের আব্দুল্লাহ’র ছেলে আকাশ (২২) ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক একদন্ত কলেজের অদূরে ফাঁকা সড়কের পাশে একটি পাট ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় চিৎকার দিয়ে স্কুল ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ধর্ষক আকাশ পালিয়ে যায়। অসুস্থ অবস্থায় ওই ছাত্রীকে পানি ঢেলে জ্ঞান ফিরিয়ে আনা এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 
একদন্ত হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, মেয়েটি আমার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। ওই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র আকাশ মেয়েটির উপর পাশবিক নির্যাতন করেছে এমনটি লোক মুখে শুনেছি। ঘটনাটি সত্য হলে চূড়ান্ত শাস্তি দাবি করছি। 
কোচিং’র পরিচালক আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। ঘটনার পর থেকে মেয়েটি কোচিংয়ে আসেনি। তবে এলাকায় লম্পট আকাশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। 
আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আকরাম আলী বলেন, ডাক্তারি রিপোর্ট বা মেয়েটির জবানবন্দি ছাড়া ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারছি না। মেয়েটির অভিভাবকেরা থানাতে বা আদালতে মামলা করলে আসামী গ্রেপ্তারসহ সব ধরণের আইনগত সহায়তা প্রদান করা হবে। 
মেয়ের চাচা আবু সাইয়িদ বুধবার দুপুর ১ টায় বলেন, গত সোমবার এই ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।  লম্পট আকাশের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছিনা। 
তিনি বলেন, আজ বুধবার আদালতের মামলা দায়ের করার জন্য নির্যাতনের শিকার মেয়েকে নিয়ে আদালতে আসছি। 
এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমন কোন ঘটনার খবর আমি জানিনা।